থামছে না ভেজাল প্রতিরোধে চলছে অভিযান

 দেখতে হুবহু একইরকম,অবিকল এক,আসলে তা নয়,তার মানে নকল। যা যথাযথ নয়, মানসম্পন্ন নয় বা এমন কিছুর সমন্বয়ে তৈরি যা উচিত নয় এবং ক্রেতাকে তা মিথ্যে কথা বলে গছিয়ে দিতে হয়। প্রতারণা বটে। যেহেতু, ভেজাল তাই ক্রেতাকে ফাঁদে ফেলতে হয়। এ একশ্রেণীর অসাধু বিক্রেতাদের কাজ। ফাটকাবাজদের ফেরেববাজি। বাজারে চলতি কথায় এদের আমরা আবার বলি ব্যবসায়ী।মাঝে মাঝে হলেও, হোক না, খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযানের খবর শুনলে বেশ ভালো লাগে। এসব সংবাদ শিরোনামসহ পত্রিকার পাতায় আরও ফলাও করে, বিশেষ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নানাদিক থেকে জোরালো হতো। তাহলে এটি সহজেই জনমনে প্রভাব বিস্তার করত। এসব খবর নজরকাড়া হওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থে যা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্যের জন্য যা মারাত্মক হুমকি,ঝুঁকি বা সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে একে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব সময়ই দ্রুত সামনে আনা উচিত। যথাযোগ্য শাস্তির অভাবে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে, এ থেকে রেহাই মিলছে না। বিষয়টা গভীরভাবে ভেবে দেখার মত।নিত্য-নৈমিত্তিক নানান খাবারগুলো যে কতোটা অস্বাস্থ্যকর, খাবার অনুপযোগী, বিক্রয়ের একেবারেই অযোগ্য এবং একটি গর্হিত অপরাধ তা জনসমক্ষে আরও ভালোভাবে তুলে ধরা দরকার। মানুষ গাঁটের পয়সা খরচ করে এসব খাবার কেনে, খাচ্ছে। অথচ, তারা জানেনা কী খাচ্ছে। কেমন খাদ্য কিনছে। ভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছে নির্ভেজাল পয়সা দিয়ে এসব ভেজাল সামগ্রী কিনে, ঠকে। লাভবান তো দূরের কথা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষে কেউ কেউ হয়তো একটু সতর্ক হয়ে চলার চেষ্টা করেন, আমজনতা জানছে না, বুঝতে পারছে না। সধারণত এটা একজন ক্রেতার পক্ষে এতটা সম্ভবও না। এতে করে শিশু থেকে শুরু করে সবাই কখনও তাৎক্ষণিকভাবে অথবা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা অসুখে ভুগছে। আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাচ্ছি না। আমরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও অবিরাম এর শিকার হচ্ছি। এত ব্যস্ততায় এসব ভাবার, স্বাভাবিক বা লোভনীয় রসনা থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের মতো একদম নিজেকে বঞ্চিত করার মনোবল বা ফুরসৎ সহজাতভাবেই মানুষমাত্রেরই অভাব, জীবন ও জীবিকা-জৈবিক তাড়নার কারণেই, এটা দোষের কিছু না। কিন্তু ভুক্তভোগীরা কপট বণিকবৃত্তির ভন্ডামির শিকার, বলি। খাদ্য নয়, অখাদ্য। এ একদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানোত্তীর্ণ; অস্বাস্থ্যকরভাবে উৎপাদিত, সংরক্ষিত। এতে অনুপযুক্ত পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর কর্মী ও অপাঙ্ক্তেয় উপাদানসমূহ যুক্ত। উৎপাদনউত্তর পরবর্তীতে বাজারজাত-বিপণনের মত বিষয়টিও ভাবার ঊর্ধ্বে নয়। পরিস্থিতিটা একবার কেমন দেখুন: বাসি-পোড়া তেলে বারবার ভাজা,নষ্ট-পচা-পরিত্যক্ত দ্রব্যের আটা-ময়দা-জবাইকৃত পশুর নাড়ি-ভুঁড়ির (বিশেষত কম্যুনিটি সেন্টারে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পড়ে থাকা, যা কিমা-রোল-সামুচা ইত্যাদি মাংস জাতীয় ফাস্ট ফুডে) ব্যবহার, কৃত্রিম রঙ-স্যাকারিন-ঘন চিনি-ওয়াসার পানি (বিশষত মিষ্টি ও আইসক্রিমে) প্রায়শ সংবাদপত্রের শিরোনাম। এছাড়া, আরও অনান্য সামগ্রীও এর থেকে পুরো মুক্ত নয়। যদিও সবই অবাধে দেদারসে বিকিকিনি করছে। ইদানীং ফরমালিন ও কার্বাইডের কথা শোনা না গেলেও, আমরা কী তা থেকে সন্দেহমুক্ত? আরও একটি অদ্ভুত ব্যাপার, বিভিন্ন রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোও এই সারিতে এখন, অভিযুক্ত : মানুষ শেষপর্যন্ত যেখানে রেহাই পেতে যাবে, তাও যেন এক মৃত্যুকূপ! তাহলে, ভরসার জায়গাটি কোথায়? আমরা কোথাও নিরাপদ নই! সর্বত্রই আমাদের প্রতারিত হতে হবে? এটাই নিয়তি বলে মেনে নিতে বাধ্য হব! আমরা কী অদৃষ্ট-বন্দী। অদৃশ্য-জিম্মী। কেবলি ব্যবসার নামে মানুষকে এভাবে ভেজাল সামগ্রীর শিকার হতে হবে? ওইসব নির্মম ব্যবসায়ীদের চরিত্র কী কসাই-প্রকৃতির? তাদের কী স্বাভাবিক জীবন বলে কিছু নেই। কেউ নেই। ওরা কী সমাজ, সংসার, পরিবারের বাইরে। কেন কেউ এগিয়ে আসছেন না। বলুন, আমাদের বিবেক মরে গেছে? আমরা কী আর মানুষ নই। আমরা কী মনুষ্যত্ব একেবারে হারিয়ে ফেলেছি। নাকি, নৈতিকতার নতুন সংজ্ঞা খুঁজতে হবে আমাদের!
এ কথাও শুনি, ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে, জেগে উঠতে হবে, কিন্তু তারা তো অবিচ্ছিন্ন নয়- অসংগঠিতভাবে এগিয়ে আসবেন কী করে। তারা কী নির্বিচারে এতসব খাদ্য-পণ্য বর্জন করতে পারবেন? কতটাইবা সবাই পারেন? বড়জোর, কেউ কেউ কিছু কিছু বাচবিছার করতে পারবেন না-হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দেখভাল যেখানে অপ্রতুল; অভিযান-জরিমানাকে সাধুবাদ দান করেই বলছি, এ পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফলাফল আনছে না; লাগাতার ও লাগসই অর্জনের অভাবে এ অভিযান শূন্যের কোঠায় কেবল দু’একটি লাইসেন্সবিহীন ভেজাল কারখানাকে বন্ধ করা হলো লাইসেন্স নেই বলে? অবশিষ্টদের দোষটা লঘু হয়ে গেল অনুমতি (লাইসেন্স) প্রাপ্ত বলে! এতে প্রকৃত কাজের কাজটি লোক দেখানোই হয়ে গেল। যেন আই ওয়াশ!

আমরা দেশব্যাপী এসব খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সুস্থ নাগরিক তৈরিতে উদ্যোগী হওয়ার প্রত্যাশা করছি।

0 Comments

There are no comments yet

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 11 =

Back to top