ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজন অন্তরে আল্লাহর ভয়

ভেজাল আজ মহামারী আকার ধারণ করেছে। সর্বত্র চলছে শুধু ভেজাল আর ভেজাল। মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছু আজ ভেজালে মিশ্রিত। অধিক মুনাফার লোভে ভেজাল এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। আর এই ভেজাল মিশ্রিত সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যদিও দেশে ভেজাল প্রতিরোধে রয়েছে প্রয়োজনীয় আইন। কিন্তু সে আইন কি ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে? শুধু আইন দিয়ে ভেজাল প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না যদি সকলের অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকে। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় বিদ্যমান, পরকালে মহান আল্লাহতাআলার নিকট জবাবদিহিতার ভয় যার অন্তরে কাজ করবে, সে কখনো ভেজালের মতো প্রতারণামূলক জঘন্যতম অপরাধ অন্য আরেকজন মানুষের সঙ্গে করতে পারবে না। আল্লাহর ভয় বাদ দিয়ে যত আইনই করা হউক না কেন ভেজাল প্রতিরোধ করা যাবে না। আল্লাহর ভয় থাকলে মানুষ যে ভেজালসহ সকল প্রতারণামূলক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে, তা এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। হজরত ওমর (রা.) তার শাসনামলে জনগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘোরাফেরা করতেন। প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র অবস্থায় যারা আছে তাদের খোঁজখবর নিতেন এবং সাহায্য সহযোগিতা করতেন। কোনো প্রজা বিপদগ্রস্ত হলে তাকে সাহায্য করতেন। একরাতে তাহাজ্জুদের মদিনার এক গলিতে ঘোরাফেরা করার সময় এক ঘর থেকে দুজন মহিলার কথোপকথনের আওয়াজ আসছিল। একজন বৃদ্ধা আরেকজন যুবতী। বৃদ্ধা মহিলা তার যুবতী মেয়েকে বলছে, দুধে পানি মিশিয়ে দাও অধিক মুনাফা হবে। মেয়ে বলল মা! আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর (রা.) দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। মেয়ের একথা শুনে মা বলল, আমাদের এখানেতো আর আমিরুল মুমিনিন নেই। তুমি পানি মিশালে তিনি তো আর দেখছেন না। আর দেখার মতো কেউ এখানে নেই।

উত্তরে মেয়ে বলল, মা! খলিফা আমাদের মাঝে নেই, আর তিনি দেখছেন না ঠিকই, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো দেখছেন। সুতরাং এমন কাজ আমি করতে পারব না। মা মেয়ের কথা সবকিছুই ওমর (রা.) বাহির থেকে শুনছিলেন।

সকালবেলা মা মেয়ে দুজনকেই ডেকে আনলেন রাষ্ট্রপ্রধান ওমর (রা.)। খোঁজখবর নিয়ে যুবতী মেয়ের আল্লাহভীরুতায় খুশি হয়ে নিজের পুত্রবধূ করে আনলেন ওমর (রা.)।  আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের অন্তরে আল্লাহর ভয় দান করুণ, যেন আমরা ভেজাল মুক্ত সুন্দর জীবন যাপন করতে পারি।

0 Comments

There are no comments yet

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine + six =

Back to top